ট্যুরিজম হবে গনমানুষের, এই লক্ষকে সামনে রেখেই সুমন্স ট্যুরিজমের যাত্রা।
সুমন্স ট্যুরিজমের যাত্রা মূলত সেই ২০১১ সাল থেকে, যা মূলত ছিলো শুধুই ট্রেকিং নির্ভর এবং তা কখনোই কোন ট্যুরিজম কোম্পানি ছিলো না। একদল ট্রেকিং পাগল তরুনদের বাংলাদেশের সৌন্দর্যগুলোকে খুজে বের করা এবং তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার নামই ছিলো সুমন্স ট্যুরিজম। ২০১১ সাল থেকে ২০১৭ পর্যন্ত টানা অর্ধযুগ সুমন্স ট্যুরিজম বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলার গহীন থেকে আরো গহীনে ছুটে বেড়িয়েছে।

এর মাঝে উল্লেখযোগ্য কিছু ট্রেইল হলো, বান্দরবানের থানছি থেকে তিন্দু- রেমাক্রি- বড় মদক-ছোট মদক- আন্ধারমানিক ট্রেইল।

বান্দরবানের থানছি হয়ে রেমাক্রি- নাফাখুম- অমিয়াখুম- ভেলাখুম- সাতভাইখুম- নাইক্ষং মুখ- জাদিপাই- জাদিপাই পাড়া- পাসিং পাড়া- কেওকাড়াডং- দার্জিলিং পাড়া- বগালেক- রুমা- বান্দরবান ট্রেইল

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি দিয়ে প্রবেশ করে লুংলাই পাড়া, তারাছা ত্রিপুরা পাড়া, প্রভাতচন্দ্র কারবারী পাড়া, প্রতিক্ষা কারবারী পাড়া, শংখমনি কারবারী পাড়া, সিপ্পি পাড়া, দেবাছড়া পাড়া, রনিনপাড়া, ক্লাপলং পাড়া সহ শতাধিক পাড়ায় সুমন্স ট্যুরিজম চষে বেড়িয়েছে। কখনো বান্দরবানের রোয়াংছড়ি দিয়ে প্রবেশ করে রাংগামাটির কাপ্তাই, আবার কখনো বান্দরবানের রুমা।

আবার কখনো বান্দরবানের রুমা দিয়ে প্রবেশ করে টানা ১৫ দিন ট্রেইল করে বান্দরবানের থানছি দিয়ে বের হওয়া। এছাড়াও সুমন্স ট্যুরিজম ২০১১ থেকে ২০১৫ এর মধ্যে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চূড়া সাফা হাফং, এছাড়া যোগী, জোতলাং, তাজিং ডং, কেওকাড়াডং, সিপ্পি সহ প্রায় টপ দশটা হিলের সবগুলোই সামিট করে ফেলেছে।

নি:সন্দেহে বলা যায় বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলার অত্যন্ত দুর্গম অঞ্চলগুলোতে সুমন্স ট্যুরিজম এর মত অন্য কারো পা পড়ে নি। দুর্গম অঞ্চলের মাঝে সুমন্স ট্যুরিজম এর হাতে এখন আছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সোয়াম ফরেস্ট সহ শতাধিক অপ্রকাশিত ঝর্না। এই দুর্গম অঞ্চলে পৌছানো সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র আমাদের দেশের শত শত আদিবাসীদের সহায়তায়।

সুমন্স ট্যুরিজম চেষ্টা করেছে সবসময় আদিবাসীদের পাশে থাকতে। ২০১৫ সালে বান্দরবানের থানছি দুর্ভিক্ষের সময় সুমন্স ট্যুরিজম এর ট্রেকার রা আদিবাসীদের সহায়তায় টানা ২- ৩ দিন হেটে দুর্ভিক্ষপীড়িত অঞ্চলগুলোতে খাদ্যসহায়তা পৌছাতে সক্ষম হয়েছিলো।

এছাড়াও সামাজিক আন্দোলনগুলোতে সুমন্স ট্যুরিজম সর্বদা সক্রিয় ছিলো। রুমা খাল বাচাও আন্দোলন, আলুটিলা বাচাও আন্দোলন সহ আদিবাসীদের উচ্ছেদ করে কৃত্রিম পর্যটন কেন্দ্রের বিরোধীতায় সক্রিয় ছিল সুমন্স ট্যুরিজম।

২০১৭ সালে সাজেকের খাদ্যসংকটে সুমন্স ট্যুরিজম ও আদিবাসীরা একত্রিত হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে, রাংগামাটির লংগদুতে সাম্প্রদায়িক হামলা, রাংগামাটির পাহাড় ধবস সহ উত্তরাঞ্চলের বন্যায় সুমন্স ট্যুরিজম টানা করেছে।

সুমন্স ট্যুরিজম কারো একক প্রতিষ্ঠান নয়। এই দেশের আদিবাসী ও টুরিস্ট – ট্রেকারদের সম্মিলিত একটা প্রতিষ্ঠান সুমন্স ট্যুরিজম। তাই তিন পার্বত্য জেলায় ট্যুরিজমের ভারটাও থাকবে মূলত আদিবাসীদের উপরেই।

সুমন্স ট্যুরিজম তার মূল উদ্দেশ্য থেকে কখনোই পিছপা হবে না। ২০১৭ সালের সাজেকের ভয়াভয় খাদ্যসংকট, এর মাঝেই ট্যুরিস্ট ও ট্যুরিজম কোম্পানির আনন্দ উল্লাস, আরেকদল ক্ষুধার্ত মানুষের দিনের পর দিন শোষিত হওয়া। সুমন্স ট্যুরিজম এর জন্মটা সেদিন ই।

সুমন্স ট্যুরিজম সেদিন থেকেই মূলত পরিকল্পনা করে একটা সুষ্ঠ ট্যুরিজম এর। যেখানে ট্রেকিং এর সাথে এই দেশে একটা সুষ্ঠ ট্যুরিজম চলবে। সেই থেকে আমাদের পথচলা

সুমন্স ট্যুরিজম ও ট্যুরিজম সংশ্লিষ্ট আদিবাসীদের কটেজ, রিসোর্স সবাই লভ্যাংশের একটা অংশ, পিছিয়ে পড়া আদিবাসী জনগোষ্ঠীর শিক্ষা খাতে ব্যায় করবে। এবং এই কাজটা পরিচালনা করবে আদিবাসীরাই।

সুমন্স ট্যুরিজম এর মূল উদ্দেশ্য, পাহাড়ের কান্নাটা সবাইকে জানানো। এই দেশটা আমাদের সকলের। দেশের প্রতি ইঞ্চি জায়গায় যাওয়ার অধিকার এই দেশের প্রতিটা মানুষের। কিন্তু কোন একটা জনগোষ্ঠীর বুকের উপর পা দিয়ে সুষ্ঠ ট্যুরিজম হতে পারে না। আমাদের ট্যুরিজম এ পিছিয়ে পড়ার মূল কারন মূলত শোষন। সুমন্স ট্যুরিজম এর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব, ট্যুরিজম এর মাধ্যমে সত্য জানা, সত্যটাকে জানানো। 

হ্যাপি ট্যুরিজম, দেখা হবে বিজয়ে। সুমন্স ট্যুরিজম এর সাথেই থাকুন।।

Rezaul Karim Sumon

“ঠিক ততদিনই বাচতে চাই, যতদিন শরীরে পাহাড়-পর্বত,বন-জংগল, ঝিরি-ঝর্না উঠার মত শক্তি থাকবে।।”

    Send A Message