।। কান্তজির মন্দির –  নয়াবাদ মসজিদ ও  একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস।।

Blog | Dec 14 | 2020 | No Comment

 

ধর্ম আর শিল্প দুটি ভিন্ন বিষয় কিন্তু মানুষ যে কারনে ধর্ম করে ঠিক একই কারনে শিল্প করে, তবুও কোথাও গিয়ে যেনো ধর্ম আর শিল্পের পথ আলাদা হয়ে যায়। একসময় ধর্মের সাথে শিল্পের চমৎকার গভীর সম্পর্ক ছিলো, সংগীত, স্থাপত্য সহ নানা মাধ্যমে তা বিভিন্ন সময় উঠে এসেছে। এই সম্পর্ক কতটা গভীর ছিলো পৃথিবী জুড়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা  পুরোনো  স্থাপনাগুলো তা বার বার মনে করিয়ে দেয়। পুরোনো স্থাপত্য গুলোর দিকে তাকালে দেখতে পাবেন বেশিরভাগ ধর্মীয় উপাসনালয়েই ছিলো শিল্পের ছোয়া। পৃথিবী জুড়ে অসংখ্য মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, মনেস্ট্রি সহ নানা উপাসনালয় ছড়িয়ে ছিটিয়ে। চমৎকার সব নান্দনিক ডিজাইন, সেই সাথে কি অসাধারণ সব মানুষের হাতের কাজ। মাটি- মানুষের সাথে ধর্ম ও শিল্পের কি দারুণ মিতালি।  



পৃথিবীর অন্য দেশের কোনো স্থাপত্য নয়,  আমাদের উত্তরাঞ্চলের ই একপ্রকার বাড়ির পাশের  দিনাজপুরের কান্তজীর মন্দিরর – নয়াবাদ মসজিদ ও সেই সময়কালকে নিয়ে বিস্তারিত কিছু ধরা যায় কিনা?  দিনাজপুরের কান্তনগরের ঢেপা নদীর তীরে অবস্থিত  এই ধর্মীয় উপাসনালয় দুটি ইতিহাস, ঐতিহ্য ও  শিল্পকর্মের চমৎকার নিদর্শন শুধু মুগ্ধই করেনা, জানিয়ে দেয় শুধু বাংলার নয়, ভারতবর্ষের ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতি ও সেই সাথে ধর্মীয় সম্প্রীতির কথা ।  কান্তজির  দেশের শ্রেষ্ঠ স্থাপনার একটি তো বটেই, এই উপমহাদেশেই এমন স্থাপনার সংখ্যা অনেক কম।



মুঘল আমলঃ

কান্তজির মন্দিরের দিকে তাকানোর আগে এটি নির্মানের সময়কালটাকে একটু ধরা যাক। একটু পিছিয়ে  সম্রাট শাহজাহানের সময়কালটাকে ধরলে দেখবেন, তিনি ছিলেন বাবর, হুমায়ুন, আকবর ও জাহাংগীরের পর পঞ্চম মুঘল সম্রাট। সম্রাট শাহজাহানের এই সময়কালটাকে বলা হয় মুঘল স্থাপত্যের স্বর্ন যুগ। এই সময়েই নির্মান করা হয় বিখ্যাত তাজমহল  (১৬৩২-১৬৫৪) । শাহজাহান ও মমতাজ মহলের তৃতীয় পুত্র আওরঙ্গজেব শাসক হিসেবে বিতর্কিত এবং সমালোচিত থাকলেও তার  প্রশাসনে হিন্দু কর্মচারীদের সংখ্যা মুসলিম কর্মচারীদের চাইতে বেশি ছিল। তিনি ছিলেন গোড়া মুসলিম , তার শাসন আমলে প্রচুর হিন্দু এবং শিয়া মুসলমান কর্মচারীদের নিয়োগের বিরুদ্ধে সুন্নি মুসলিমরা অভিযোগ করেছিল। তিনি সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন ”ধর্মের সাথে জাগতিক কাজের কি সম্পর্ক? প্রশাসনের কর্মচারীরাদের ধর্মীয় গোঁড়ামি তে এত উৎসাহের কারণ কি? তোমার ধর্ম তোমার কাছে আমার ধর্ম আমার কাছে।” তিনি একজন ব্যক্তি ধর্মীয় পরিচয় এর চাইতে তিনি তার যোগ্যতা কে অধিক গুরুত্ব দিতেন।


 কথিত আছে কান্তজির মন্দির প্রতিষ্ঠাতা প্রাননাথ রায়ের বিরুদ্ধে  একটি মিথ্যে অভিযোগ উঠে ।  বাদশাহ আওরঙ্গজেব সমন জারি করলেন প্রাণনাথকে কৈফিয়ত দেওয়ার জন্য। প্রাণনাথ ছুটলেন হাজার মাইল দূরে দিল্লির পথে । মুঘল বাদশাহর উপঢৌকন হিসেবে যাওয়ার সময় তিনি  সাথে নিয়ে যান  দিনাজপুরের বিখ্যাত সুগন্ধি কাটারিভোগ চাল ও বহুমূল্য উপহার । প্রাণনাথের নম্র-ভদ্র আচরণ ও বহুমূল্য উপহার পেয়ে বাদশাহ আওরঙ্গজেবের ভুল ভাঙে। তিনি তাকে অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি দেন এবং মুঘল বাদশাহর প্রতি তার ভালোবাসা ও আনুগত্যে খুশি হয়ে আওরঙ্গজেব তাকে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন। কৃষ্ণ ভক্ত রাজা প্রাননাথ বিপদ থেকে উদ্ধার পেয়ে ,  স্থির করেন তিনি ধর্মের জন্য একটা বড়সর কিছু করবেন এবং নিজভূমে ফিরে আসার পূর্বে বৃন্দাবন ভ্রমণের জন্য মনস্থির করলেন এবং  সিদ্ধান্ত নিলেন ফিরে গিয়ে তিনি ভগবান কৃষ্ণের একটি মন্দির নির্মাণ করবেন। ধারনা করা হয় কান্তজিরে স্থাপন করা কৃষ্ণ মূর্তিটি রাজা প্রাননাথ বৃন্দাবন থেকে এনেছিলেন। যদিও এই কৃষ্ণ মুর্তিটি এখন নেই, চুরি হয়ে গেছে।  তবে একটি  মিথ চালু আছে  যে মুঘল বাদশাহ আওরঙ্গজেব স্বয়ং তাকে একটি কৃষ্ণমন্দির নির্মাণের আদেশ দেন।

কান্তজিরে প্রথম মন্দিরঃ


মূল যে কান্তজির মন্দির তার বাইরে প্রায় শ খানেক হাত দূরে আগাছায় ছাওয়া একটি এক চূড়া বিশিষ্ট ছোট ধ্বংসপ্রাপ্ত মন্দির ছিলো । অনেকদিন পর  এবার গিয়ে দেখলাম সেটি বেশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে পুজা আর্চনা  শুরু হয়েছে। ধারণা করা হয় দিল্লি থেকে ফিরেই মহারাজ প্রাণনাথ ১৭০৪ সালে এ মন্দির তৈরি করে এখানে কৃষ্ণের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি সাময়িকভাবে বৃন্দাবন থেকে আনা হয়েছিল। নবরত্ন মন্দির বা  কান্তজির মন্দির তৈরি সমাপ্ত হলে এ মূর্তি এখানে স্থানান্তর করা হয়।

এ মন্দির ছিল ১৬ পার্শ্ব সম্বলিত সৌধ এবং এর উচ্চতা ছিল ১২.১৯ মি. এবং এর দক্ষিণ দিকে প্রবেশ পথে ছিল বহু খাঁজ বিশিষ্ট খিলান। বর্তমানে মন্দিরের গেটে চমৎকার একটি কলকি ফুলের গাছ আছে, হলুদ কলকি ফুলের কারনে এই মন্দিরটিও দেখতে খুবই চমৎকার ।


কেন পুরোনো স্থাপত্য দেখতে যাবোঃ




পৃথিবিজুড়ে পাহাড় সমুদ্র সহ নানা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের জন্য কিংবা দেখতে যে পরিমান মানুষ ভ্রমন করে, পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নানা পুরোনো স্থাপত্য দেখতে তার চেয়ে কোনো অংশে কম মানুষ ভ্রমন করে না। আসলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ  ও পুরোনো স্থাপত্য দেখতে যাওয়ার মাঝে কিছু পার্থক্য তো আছেই। এই পার্থক্যটা আগে বুঝতে হবে, কেন আপনি কান্তজিরের মত পুরোনো মন্দিরে যাবেন? তাহলেই আপনার ভালো লাগবে।   যার কল্পনাশক্তি ও ইতিহাসকে ছুয়ে দেখার আগ্রহ যত প্রখর সে ব্যক্তি এই পুরোনো স্থাপত্যগুলোর দিকে তাকিয়ে ততবেশি আনন্দ পাবেন, এটি নিশ্চিত । এই আনন্দের সাথে অন্য কোন কিছুর আনন্দ মেলান যাবে না। আচ্ছা এবার মন্দিরের দিকে যাওয়া যাক। …

।। মূল কান্তজির বা নবরত্ন মন্দির।।


এবার আসা যাক মুল মন্দিরে । মন্দিরের দেয়াল গুলোর দিকে ভালোভাবে তাকালে, মানুষের হাতের চমৎকার সব শিল্পকর্ম দেখতে পারবেন। আয়তাকার ও পিরামিড আকৃতির এই মন্দিরটির তিনটি ধাপ  এবং এগুলো এখনো মোটামুটি ঠিক আছে । যেগুলো নেই তা হলো,  তিন ধাপের কোণগুলির উপরে মোট নয়টি  শিখর বা রত্ন ছিলো যা দেখে মনে হতো যেন একটি উচুঁ ভিত্তির উপর প্রকান্ড অলঙ্কৃত রথ দন্ডায়মান। বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত বাকি আটটি অলঙ্কৃত চূড়া নিচের দ্বিতীয়তলার ছাদের  কোণে সংযোজন করা হয়েছিল।

মন্দিরের চারদিকে খোলা খিলান পথ রয়েছে, যা দেখে মনে হতে পারে চার দিকই একই রকম। এই নকশার মুল কারন,  যাতে যে কোনো দিক থেকেই পূজারীরা ভেতরের পবিত্র স্থানে রাখা দেবমূর্তিকে দেখতে পায়। দেয়াল জুড়ে পোড়ামাটির ফলকগুলোতে লেখা আছে, রামায়ণ, মহাভারত সহ বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনী। পোড়ামাটির ফলকে চিত্র দিয়ে অংকিত করে প্রতিটি কাহিনি চমৎকারভাবে বর্ননা করা আছে। পুরো মন্দিরে প্রায় ১৫,০০০-এর মতো টেরাকোটা টালি রয়েছে, ধারনা করা হয় পুরো মন্দিরের গা জুড়ে টেরাকোটাগুলোতে লক্ষাধিক  মুর্তি রয়েছে।



মন্দিরের বাইরের দেয়ালের পোড়ামাটির অলঙ্করণের সাধারণ যে চিত্র , বলা হয়ে থাকে, হিন্দু মিথের চার যুগের মূল কাহিনী চিত্রায়িত আছে চারদিকের দেয়ালে।

মন্দিরের উত্তর কোণের  চিত্রের মধ্যে প্রাধান্য বিস্তার করেছে কৃষ্ণ ও বলরাম।  কৃষ্ণের বিভিন্ন চিত্র, গোয়ালিনীর শিকায় করে দুধ ও দৈ বহন করার চিত্র, ভগবত-পুরাণ এবং মহাভারত তথা শ্রীকৃষ্ণ লীলার বিবরণ,  দধী মন্থন, রাসচক্র, নৌকাবিহার, অসুরদমন সহ অসংখ্য চিত্র। এছাড়া কালিকা পুরানের ঘটনাও এখানে উপস্থিত।

নিচের দিকের টেরাকোটায় আছে রাজকীয় বিহার, দুধারে পতাকাবাহি সেনা, যুদ্ধ-বিগ্রহ, শিকারদৃশ্য, নৌকায় বিলাস,  উপরের অংশে রামায়ণ, মহাভারতের চিত্র ও বিভিন্ন দেব-দেবীর মূর্তি খোদিত ।

মন্দিরের গায়ে দ্বিতীয় পর্যায়ের দিকে তাকালেই দেখবেন মুঘলদের শিকার দৃশ্য, হাতি, ঘোড়া, উট সহযোগে রাজকীয় শোভাযাত্রা এবং অভিজাতদের জন্য চমৎকারভাবে তৈরি গরুর গাড়ি। তাদের গায়ে ছিল মুগল পোশাক ও অস্ত্র। সুন্দরভাবে সজ্জিত হাতি এবং ঘোড়া ,জমিদারের হাতে বিলাসী হুক্কা।  নদীর দৃশ্য আছে, সেখানে  লোকজনে ঠাসা সরু লম্বা নৌকায় সকলে আন্দোৎসবে মগ্ন। ছোট ছোট সৈন্যদলের গায়ে রয়েছে ইউরোপীয় পোশাক, খোলা তলোয়ার ও শিরস্ত্রাণ পরিহিত অবস্থায় এগিয়ে যাচ্ছে। এই  দ্বিতীয় ধাপেই একটি আকর্ষণীয় ইউরোপীয় যুদ্ধ জাহাজ রয়েছে।

মন্দিরের গায়ে তৃতীয় ধাপে আছে পৌরাণিক কাহিনীর চিত্র। এখানে লৌকিকভাবে কৃষ্ণের প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়েছে। কিশোর কৃষ্ণকে বধ করতে উদ্যত, কৃষ্ণ কর্তৃক রাক্ষস পাতনা এবং সারস গলার দানব বাকাসুরা হত্যা, গোবর্ধন পর্বতকে উপড়ে ফেলে কেশি হত্যা; স্বর্প দানব কালিয়াকে দমন এবং লম্বা সরু নৌকায় কৃষ্ণের আনন্দ ভ্রমণ ইত্যাদি।

মন্দিরের দক্ষিণ মুখে রামায়ণের কাহিনী ফুটিয়ে তোলা  হয়েছে।এছাড়া নারী-পুরুষ, গায়ক ও বাদক, যোদ্ধা , শিকারী, গৃহিনী, নৌকার মাঝি,দেবতা ,  কিন্নর,  নৃত্যরতা রমণী, পালকি বাহক, গাছ-পালা, ফল ও ফুল, লতা-পাতা ,রাম-রাবনের যুদ্ধ, হনুমানের লঙ্কায় আগুন দেয়া সহ মোগল বাদশাহ আকবরের আমলের যুদ্ধের কাহিনিও ফুটে উঠেছে  মন্দিরের গায়ের  এসব টেরাকোটায়৷

প্রতি বছর বাংলা সনের কার্তিক মাসের পূর্ণিমা তিথিতে শ্রীকৃষ্ণ তাঁর গোপীদের নিয়ে বৃন্দাবনে রাস উৎসবে মেতে উঠতেন৷ সেই ধারা অনুসারে ১৭৫২ সালে মন্দির নির্মাণের পর থেকে কান্তনগর মন্দিরে রাস উৎসব এবং মাসব্যাপী রাস মেলা অনুষ্ঠিত হয়৷ সেই ধারা এখনো চলমান আছে। কালের পরিক্রমায় এই মন্দির হয়তো একদিন ধ্বংস প্রাপ্ত হবে কিন্তু ইতিহাস ,ঐতিহ্য , ধর্ম, সংস্কৃতি, কোনোদিন হারাতে দেয়া যাবে না।





কান্তজির মন্দির ও নয়াবাদ মসজিদের সম্পর্কঃ



মাঝে মাঝে  আশ্চর্য লাগে মুঘল আমলে শিল্পের সাথে ধর্মের সাংঘর্ষিক অবস্থা তততা ছিলো না অন্তত বর্তমানে অবস্থা যতটা খারাপ দেখা যায়। অথচ এই একুশ শতকে আমরা জ্ঞান বিজ্ঞানে কতটা এগিয়ে গেছি।  কান্তজির মন্দির নির্মানে পশ্চিম থেকে আগত অনেক মুসলিম ভাস্কর্য শিল্পি ছিলেন। তার প্রমান পাওয়া যায় কান্তজির এর পাশেই নয়াবাদ মসজিদ দেখলেই। নয়াবাদ মসজিদের সামনেই পুরোনো একটি কবর দেখতে পাবেন। ধারনা করা হয় এই কবরটি কান্তজির মন্দির নির্মানের জন্য আগত মুসলিম ভাস্কর্য শিল্পীর কবর এটি।  শুধু তাই নয় বর্তমানে সাম্প্রতিক সময়ে যারা ভাস্কর্য নিয়ে সমালোচনা করছেন,  তাদের জ্ঞাতার্থে জানাতে চাই, নয়াবাদ মসজিদের গায়ে অনেক ফুলের টেরাকোটার সাথে একটি জোড়া ময়ুরের টেরাকোটাও ছিলো । তবে কি কারনে এটি ছিলো, তা জানা নেই আমার।  মসজিদের গায়ের এই টেরাকোটায় প্রানির চিত্র, ভাস্কর্য বা মুর্তি যে নামেই ডাকেন না কেন তা ছিলো । সেই চিত্র নিশ্চয়ই কারো সৃস্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা বা উপাসনা করতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় নি কখনোই । আবার কান্তজির মন্দিরের গায়ের উপরের দিকের সমান্তরাল প্যানেলে যে ফুলের ছবিগুলো রয়েছে, সেগুলোর দিকে তাকালেই দেখতে পাবেন ষাট গম্বুজ, কুসুম্বা , সোনা মসজিদ সহ অনেক মসজিদে এই একই টেরাকোটার প্রচুর ব্যবহার রয়েছে।

 কান্তজির মন্দির সহ সেই সময়ের অন্যান্য স্থাপত্যের দিকে তাকালে মনে হয়  সেই সময়ের ভাস্কর্য শিল্পীদের মাঝে রামায়ন , মহাভারত সহ বিভিন্ন পৌরনিক কাহিনী , বিভিন্ন ধর্ম ও ধর্ম গ্রন্থ , মানুষের জীবন, প্রান- প্রকৃতি,মাটি- মানুষ  ও ইতিহাসের খুটিনাটি সম্পর্কে কত গভীর জ্ঞান ছিলো ?

পরিশেষেঃ

আওরঙ্গজেবের সময় মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্গত ছিলো  ৩.২ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটারের বেশি অঞ্চল । বলা হয়ে থাকে এই শাসনামলে মুঘল সাম্রাজ্যের সীমানা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছায়।

এসময় সাম্রাজ্যের জনসংখ্যা ছিল ১৫০ মিলিয়নের বেশি যা তৎকালীন পৃথিবীর জনসংখ্যার প্রায় এক চতুর্থাংশ এবং জিডিপি ছিল ৯০ বিলিয়ন ডলারের বেশি । মুঘল আমলেই ছিলো ভারতবর্ষের  স্থাপত্যের ইতিহাসের  স্বর্ণযুগে , এসময়ই অনেক স্মৃতিসৌধ, মসজিদ,মন্দির, দুর্গ তৈরি  করা হয়।  যার মধ্যে এখনো পৃথিবীর বুকে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে  রয়েছে আগ্রার  তাজমহল,লালকেল্লা, দিল্লি জামে মসজিদ, মোতি মসজিদ সহ কত স্থাপনা। এসবের দিকে তাকালে  মাঝে মাঝে মনে হয় আসলে আধুনিকতা নয়,   শিল্প, সাহিত্য ,সংগীত , স্থাপত্য অনেক দিক থেকেই আমরা যেনো অনেক অনেক দূর পিছিয়ে গিয়েছি কিংবা এখনো যাচ্ছি ।

ধর্ম মানেই সাহিত্য, ধর্ম মানেই শিল্প, ধর্ম মানেই সংগীত। মানুষ যে কারনে ধর্ম করে ঠিক একই কারনে শিল্প করে, তারপরও কোথাও গিয়ে ধর্ম ও শিল্পের পথ নিশ্চয়ই আলাদা হয়ে যায়। কিন্তু ধর্মের সাথে শিল্পের সাংঘর্ষিক অবস্থার সৃষ্টি করেছেন সবসময়ই ধর্মান্ধরাই।এটা অতীতেও হয়েছে,  কিন্তু এখন সেটি ভয়াবহ আকারেই হচ্ছে, দুঃখজনক ব্যাপার এটাই।

দেশে বা দেশেরবাইরে যেকোনো স্থানে ভ্রমনের  জন্য আমাদের ওয়েবসাইটের প্যাকেজগুলো দেখতে পারেন কিংবা  সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন +8801877027277 এই নাম্বারে।

লেখাঃ রেজাউল করিম সুমন
এডমিন, সুমন্স ট্যুরিজম




 

Leave a Reply