তিব্বতীয় জীবন, চীনের আগ্রাসন ও দালাই লামা

Blog | Dec 19 | 2020 | No Comment

পৃথিবীতে নিষিদ্ধ দেশ বা নগরীর কথা বললেই, আমাদের সবার মনের কোনে ভেসে উঠে দুটি নাম। নিষিদ্ধ দেশ তিব্বত বা নিষিদ্ধ নগরী তিব্বতের রাজধানী লাসার কথা। ভারত ও চীনের মতো দুইটি সুপ্রাচীন সভ্যতার মাঝামাঝি স্থানে তিব্বতী সভ্যতার বিস্তার ঘটে। তিব্বত মালভূমির পূর্বে অবস্থিত পর্বতশ্রেণী তিব্বত ও চীনের মধ্যেকার সীমান্ত হিসেবে দীর্ঘকাল অবস্থান করেছে, অপরদিকে হিমালয়ের সুউচ্চ পর্বতশ্রেণী ভারত ও নেপালের রাজ্যগুলি থেকে তিব্বতকে সম্পুর্ন আলাদা করে রেখেছে।

বর্তমানে চীনের শাসনে থাকা তিব্বত বা লাসা ভ্রমনে বিদেশিদের জন্য , এখনো নানাবিধ জটিলতা রয়েছে। কিন্তু যদি আপনি তিব্বতীয় ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্ম, জীবনযাপন, সেই সাথে পর্বতসারির  অপার সৌন্দর্য এবং প্রায় ১৪০০০ ফুট গড় উচ্চতায় প্রতিকূল পরিবেশে তিব্বতীয়দের বেচে থাকা জীবনগুলোকে  বুঝতে চান, জানতে চান, দেখতে চান, তাহলে বর্তমানে  চীনের দখলে থাকা সেই নিষিদ্ধ দেশ বা নগরীতেই পা ফেলতে হবে তা কিন্তু নয়। বরং এর চেয়ে অপেক্ষাকৃত সহজ হবে যদি ভারত- চীনের সীমান্তবর্তী তিব্বতীয় অঞ্চলগুলোকে টার্গেট করা যায়।

সে লক্ষ্যেই হিমাচল প্রদেশের লাহুল ও স্পিতি এবং কিন্নোর এর তিব্বতীয় অঞ্চলের ভারতীয় অংশের ভারত- চীনের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোয় পা রাখা। এবার চেষ্টা করবো, এই অঞ্চল ভ্রমনে  তিব্বতীয়দের নিয়ে নিজস্ব  কিছু অভিজ্ঞতা তুলে ধরার। একেবারে সব বলে ফেলা হয়তো সম্ভব হবে না, যাদের তিব্বত নিয়ে আগ্রহ আছে তারা লেখাটি পড়তে পারেন।

ভারতের হিমাচল প্রদেশের শতকরা ৯০ ভাগের ও বেশি মানুষ হিন্দু ধর্মাবলম্বী। তারপরও এই অঞ্চলে বেশ ভালো সংখ্যক তিব্বতীদের বসবাস রয়েছে সুতরাং, হিন্দুধর্মের পরেই হিমাচলে যে ধর্ম বেশী অনুসৃত হয় তা হল, বৌদ্ধধর্ম । তিব্বতিরা এখানে সার্বজনীনভাবে লাহুল ও স্পিতি এবং কিন্নৌর জেলায় বসবাস শুরু করে। এই অঞ্চলে আমার যাত্রার টার্গেট ছিলো সম্পূর্ণ ভিন্ন। শুরুতে হিমাচল প্রদেশের ১৯৬০০ ফুট উচ্চতার একটা পর্বত আহোরনের উদ্দেশ্যে এই অঞ্চলে যাওয়া, সেখান থেকেই তিব্বতকে জানা, পর্বোতাহরনের গল্প এখন তোলা থাক, তিব্বতএর গল্প শুরু হোক।

হিমাচলের স্পিতি অঞ্চলে প্রায় ১৪০০০ ফুট উচুতে ভারতের সবচেয়ে উচু গ্রাম কিবেরে আমি একটি তিব্বতি পরিবারের সাথে বসবাস করছি প্রায় তিনদিন যাবত। ভাষাগত জটিলতায় প্রথম তিনদিন তেমন একটা কথাবলার সুবিধে করতে পারি নি পরিবারটির সাথে। এই পরিবারটি আমার বন্ধু চেরিং ডন এর আত্মীয়, সেই সুবাদেই এখানে আশ্রয় পেয়েছি। কাযা বা স্পিতির এই দুর্গম অঞ্চলে আমি বড্ড অসময়ে ঢুকেছি, পদে পদে তার খেসারত কয়েকদিনে বেশ ভালোই দিতে হয়েছে। প্রচন্ড ঠান্ডা, প্রতিকূল আবহাওয়া, রাস্তা প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বরফের কারনে, এখানে মাত্র ৪ মাসের জন্য বরফ সরে গিয়ে যাতায়াতের রাস্তা তৈরি হয়। বাকি ৭-৮ মাস রাস্তাঘাট সব বরফের নিচে তলিয়ে থাকে, সব বন্ধ হওয়ার পর অপেক্ষাকৃত ঢালে থাকা এই গ্রামও একসময় বরফের চাদরে ডুবে যায়। আবার স্নোফল শুরু হয়েছে, রাস্তা হয়তো কিছুদিনের মাঝেই বরফের চাদরে ঢেকে যাবে কয়েকমাসের জন্য। চেরিং মানালিতে থাকায় আমাকে এই গ্রামেই অপেক্ষা করতে হবে আরো ২-৩ দিন।

ভাষাগত জটিলতা থাকলেও আকার ইংগিতে বা ভাংগা হিন্দি আর মিশ্রিত ইংরেজিতে অনেকটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছি, মনের ভাব প্রকাশ করতে পারায় পরিবারটি এই কয়দিনেই বেশ ঘনিষ্ঠ হয়ে গেছে। এখানে পাহাড়ের উপরে সব বাড়িঘর পাথর দিয়ে বানানো, রড সিমেন্ট ছাড়াই সু উচ্চ পর্বতের গায়ে পাথরের উপর পাথর চাপা দেয়া বিল্ডিং এর সাথে অসাধারণ ও অনিন্দ্য সুন্দর সব কারুকার্য, সেই সাথে পর্বতের উপরের মাথায় সবসময়ই বরফের চাদরে ঢেকে থাকায় পুরো পরিবেশের সৌন্দর্য সম্পূর্ণ অন্যরকম । বাড়িতে চমৎকার একটি ছাদ আছে, ছাদের একপাশে বাড়ির প্রধান মুরুব্বি ধর্মচর্চা করেন। সকাল- সন্ধ্যা ঢাক বাজিয়ে, কাসার পাত্রে পানি দিয়ে, প্রদীপ জ্বালিয়ে শুরু হয় প্রার্থনা।।

অনেক বছর পার্বত্য চট্রগ্রাম অঞ্চলে যাতায়াতের ফলে বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে বেশ একটি ধারণা আছে, তাই হয়তো তিব্বতি বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে জানার আগ্রহ সবসময়ই ছিলো৷ সকালে সূর্যোদয় দেখার জন্য ছাদে উঠতেই মুরুব্বি আমাকে ডেকে নিলেন তার উপাসনালয়ের ঘরে৷ ঢোলের মত একটা বাদ্যযন্ত্র কিছুক্ষন বাজানো হলো, তারপর বাটিতে করে সারি সারি প্রদীপ জ্বালানো হলো, আমিও হাত লাগালাম। সামনে কিছু বৌদ্ধ মূর্তি আছে, আর আছে বেশকিছু দালাই লামাদের ছবি। বর্তমান দালাই লামা তেনজিন গিয়াতসো এর ছোট্ট একটা ছবি সবার সামনে।

পুরোটা সকালজুড়ে প্রার্থনা চললো, এর পর আমরা চললাম পার্শ্ববর্তী আরেকটা গ্রাম চিচাম এর দিকে, সাথে ছিলো এই পরিবারেরই দুই ভাই, দুজনই আমার বন্ধু চেরিং এর কাজিন, দু ঘন্টা হাটার পর আমরা পেলাম চিচাম ব্রিজ। এই চিচাম ব্রিজই প্রায় ১৪০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ভারতের শেষ সীমানার দুটি গ্রাম কিবের ও চিচামকে কানেক্ট করেছে। আরো ঘন্টাখানেক পর গ্রামে উপস্থিত হলাম। দুপুরে ওখানেই খাবার আয়োজন করলো, সেদিন ই প্রথম ইয়াকের মাংস খেয়েছি। সাথে ছিলো রুটি, অল্প চাল, ডাল ছিলো দু প্রকার, ইয়াকের ঘি, আর পিজ নামে একটা খেজুরের মত ফল। ওখান থেকে ফেরার জন্য আর হাটতে হলো না, পাড়ায় একটা গাড়ি ছিলো, সেটাতেই আমরা পৌছলাম কাযা, কিবের ও চিচামে নেটওয়ার্ক না পাওয়ায়, কাযায় গিয়ে মোবাইলে চেরিং এর সাথে যোগাযোগ করলাম। ওর সাথে কথা বলে একটু স্বস্থি পেলাম, ওর সাথে শীঘ্রই দেখা হচ্ছে। কাযা থেকে গাড়িটা আমাদের কিবের এ পৌছে দিয়ে চিচাম ফিরবে।

আরো একটা দিন বেশ আনন্দেই কাটলো এই পাড়ায়। অনেকটা অভ্যস্ত হয়ে গেছি পুরো পাড়ার সাথে, অনেকেই এখন চিনে আমাকে, আগুন জ্বালিয়ে শেষ বিকেলে আড্ডায় থাকা হয়, বেশ ভালোই লাগছে। বন্ধু চেরিং ডন আসলো সন্ধ্যার পর, বাইকে। এখানে প্রতি বাড়ির রান্নাঘরই হলো বৈঠকখান, কাজেই এতো সুন্দর রান্নাঘর আর হয়তো কোথাও দেখতে পাবো না, দারুন পরিপাটি। প্রচন্ড ঠান্ডায় জমিয়ে আড্ডা , খাওয়া দাওয়া, গান বাজনা, অতিথি সব এই রান্নাঘর ঘিরেই। চারদিকে সারি সারি করে সবাই বসেছি, মাঝখানে চা ফুটানো হচ্ছে আর জম্পেস আড্ডা। কি অপূর্ব একটা সময় কাটলো এই গ্রামে।।

সকাল হয়েছে, কিবের থেকে এখন বিদায়ের পালা, অসময়ে তিব্বত অঞ্চলে প্রবেশ করে এখন মনে হচ্ছে বেশ ভালোই হয়েছে, সময়ে আসলে হয়তো হোটেলে থেকে শুধু প্রকৃতি দেখেই ফিরে যেতে হতো। তিব্বত সম্পর্কে জানার শুরুটা, চমৎকার এই পরিবারটির কাছ থেকেই। আরো বহুদূরে যেতে হবে, অনেক পথ বাকি। বন্ধু চেরিং ডনের বাইকে আমাদের গন্তব্য টাবো মনেস্ট্রির দিকে। এখান থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পথ। বাইকে উঠেই অনুভব করলাম, সমতলের ৮০ কিলোমিটার আর দুর্গম পাহাড়ের প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতার এই রাস্তায় ৮০ কিলোমিটার পথ সম্পূর্ণ ভিন্ন, টেম্পো ট্রাভেলারে আসার কারনে বুঝতে পারি নি, এখন বুঝতে পারছি । ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে চমৎকার এই কিবের গ্রামটি। আমরা হিমশীতল আবহাওয়ায় ছুটছি টাবোর দিকে, ওখানে গেলেই আমরা জানতে পারবো তিব্বতের আরো অনেক কিছু।।

টাবো ভারত এর হিমাচল প্রদেশের লাহুল ও স্পিতি জেলার স্পিতি নদীর উপর একটি ছোট শহর । এই শহরটি রিকং পিও ও কাজা র মাঝে অবস্থিত। কাজা স্পিতির মহকুমার কেন্দ্রীয় দপ্তর । শহর ঘিরে একটি বৌদ্ধ মঠ রয়েছে যা কিনা কিংবদন্তি অনুসারে হাজার বছরের বেশি পুরানো।তেনজ়িন গিয়াৎসো, অর্থাৎ চতুর্দশ দলাই লামা এই টাবো বৌদ্ধমঠেই অবসর গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন টাবো বৌদ্ধমঠটি অন্যতম পবিত্র বৌদ্ধমঠ । ১৯৯৬ সালে চতুর্দশ দলাই লামা টাবোতেই কালচক্র এর প্রারম্ভিক উৎসব করেন যেটি টাবো বৌদ্ধমঠের সহস্রাব্দের বার্ষিকী উৎসবের সঙ্গে একই সময়ে পড়েছিল। এই উৎসবটিতে সারা বিশ্বের সহস্রাধিক বৌদ্ধ ধর্মালম্বী উপস্থিত ছিলেন।

তিব্বতের ইতিহাস, তিব্বতের বৌদ্ধ ধর্মের ইতিহাসের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। তিব্বতি শাসকদের পৃস্টপোষকতায় মূলত তিব্বতি বৌদ্ধ ধর্মের সূচনা হয়। এ ধর্মের প্রসারের ফলে তিব্বতি বৌদ্ধ ধর্মের বর্নিল সংস্কৃতি গড়ে উঠে। তিব্বতি প্রধান ধর্মগুরু বা আধ্যাত্মিক নেতার পদবী হলো দালাই লামা। তিব্বতিদের বিশ্বাস অনুযায়ী দালাই লামা হলো স্বয়ং বুদ্ধের অবতার। শুধু তাই নয় দালাই লামাকেই তিব্বতের আধ্যাত্মিক ও শাসনতন্ত্রের প্রধান হিসেবে মনে করে থাকেন তিব্বতীরা।

১৩১১ সালে গেনদুন দ্রুপ সর্বপ্রথম দালাই লামা হিসেবে আবির্ভূত হন। একসময়ের নিষিদ্ধ নগরী, তিব্বতের রাজধানী লাসার পোতালা প্রাসাদে দালাই লামা বসবাস করতেন। বর্তমান চতুর্দশ দালাই লামা তেনজিন গিয়াতসো ভারতের এই হিমাচল প্রদেশেরই ধর্মশালায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন।

দালাই লামার প্রতি তিব্বতীদের রয়েছে শর্তহীন আনুগত্য ও ভক্তি। ভক্তি ও আনুগত্যের ব্যাপারটা এতোটাই প্রবল যে, অতীতে একসময় দালাই লামার শুকনো বিস্টা থেকে অসুস্থ তিব্বতিদের জন্য ঔষধ তৈরি করা হতো। চীনের তিব্বত দখলের আগ পর্যন্ত তিব্বতিরা নিজেদের সাথে সবসময় দালাই লামার ছবি রাখতো। ১৯৯৬ সালে চীন সরকার দালাই লামার ছবি সাথে রাখা নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছে।

তিব্বতীদের বিশ্বাস অনুযায়ী কোনো দালাই লামার মৃত্যু হলে তাদের পুনর্জন্ম হয়। দালাই লামার মৃত্যু সাথে সাথেই দ্বিতীয় প্রধান আধ্যাত্মিক গুরুর নেতৃত্বে প্রধান লামারা নতুন দালাই লামারুপী শিশুকে খুজে বের করেন। দালাই লামা রুপি শিশুকে খোজার প্রক্রিয়াটা মোটামুটি আধ্যাত্মিক। প্রধান লামারা সপ্নে নতুন দালাই লামা রুপী শিশুকে খুজে পাওয়ার ইংগিত পান। যদি সপ্নে ইংগিত না পান তাহলে পূর্ববর্তী দালাই লামার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ধোঁয়ার গতিপথ অনুসরণ করে নতুন জন্ম নেয়া শিশুদের মাঝে দালাই লামাকে খুজে বের করার চেষ্টা করেন। এভাবেও যদি খুজে পাওয়া না যায় তবে প্রায় সাড়ে সতেরো হাজার ফুট উচুতে লামও লাসো নামক স্থানে হ্রদ এর পাড়ে লামারা ধ্যানে মগ্ন হন। বর্তমান দালাই লামা তেনজিন গিয়াতসোকে খুজে পেতে প্রধান লামারা চার বছর ধ্যানমগ্ন ছিলেন। চার বছর ধ্যানমগ্ন থাকার পর লামারা ১৪ তম দালাই লামার ব্যাপারে নির্দেশনা পেয়ে তাকে খুজে বের করেন।

খুজে বের করার পর, শিশু দালাই লামার সামনে অন্যান্য জিনিসপত্রের সাথে পূর্ববর্তী দালাই লামার ব্যবহৃত কিছু জিনিসপত্র উপস্থিত করা হয়। যদি সেই শিশু পূর্ববর্তী দালাই লামার নির্দিষ্ট কিছু জিনিস বাছাই করতে পারে, তবেই তাকে পরবর্তী দালাই লামা হিসবে গন্য করা হয়।

বর্তমান চতুর্দশ দালাই লামা তেনজিন গিয়াতসোকে এই প্রক্রিয়ায় খুজে বের করা হয়েছে। তাকে তিব্বতীয়রা মনে করেন স্বয়ং বুদ্ধের অবতার। কিন্তু এই আধ্যাত্মিক গুরু নিজেকে শুধুই একজন সাধারণ বৌদ্ধ ভিক্ষু মনে করেন। চীন যেভাবে তিব্বতকে আকড়ে ধরে জোর পূর্বক দখল করে আছে , মনে করা হয়ে থাকে, হয়তো তিনিই তিব্বতের সর্বশেষ দালাই লামা। তিনি ক্ষমতা নয়, শুধুমাত্র মানুষের মুক্তি চেয়েছেন, শুধু চেয়েছেন পবিত্রভূমি এই তিব্বতে যেনো সাধারণ তিব্বতীদের রক্ত না ঝরে। তাই হয়তো তিনি পোতালা প্রাসাদ ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন এই হিমাচল প্রদেশে।

চীনের সাথে সংঘাত এড়াতে সবসময়ই সমঝোতা আর অহিংসার কথা বলে আসছেন তিব্বতের এই সর্বোচ্চ নেতা। ক্ষোভ দানা বাঁধতে থাকা হাজার হাজার তিব্বতি লামা ও লক্ষ লক্ষ অনুসারীদের শান্তভাবে চীন সরকারের এই অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার আহবান জানিয়ে আসছেন তিনি।

নিজের জন্মভূমি থেকে নির্বাসিত হয়েও জীবনের শেষ দিনগুলোতেও এই নেতা বিশ্ববাসীর কাছে এখনো পৌছে দিচ্ছেন অহিংসার বাণী। এজন্যই তাকে ১৯৮৯ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। হিমালয়ের কোলে বাস করা সাধারণ তিব্বতীদের আস্থা এবং বিশ্বাস জুড়ে দালাইলামার অহিংসার বাণীগুলো হিমালয়ের মতোই অবিচল থাকুক। গৌতম বুদ্ধের অহিংসার বানী পৃথিবীর সর্বোচ্চ এই পর্বতমালা থেকে ছড়িতে পড়ুক পুরো পৃথিবীজুড়ে। লাসার পোতালা প্রাসাদে যাওয়া হয় নি ঠিকই, কিন্তু ১০৭৬০ ফুট উচ্চতায় টাবো মঠের পাশেই বয়ে চলা হিমালয়ের বরফগলা পানির অনিন্দ্যসুন্দর এই স্পিতি নদীর পাশে বসে বুদ্ধের অহিংসা বানীর কথাগুলো জানার জন্য, গভীরভাবে উপলব্ধি করার জন্য হলেও একবার তিব্বতীয় এই মঠের পাশে বসে রাত্রিযাপন করাই যেতে পারে।।

চীন আর ভারত রাস্ট্রদুটির দখলদারি মনোভাবের কারনে এই অঞ্চলে আদিবাসীরা তাদের নিজস্ব সতন্ত্র বৈচিত্র্য হারিয়ে ফেলছে। চীন- ভারত- পাকিস্তান যেসব জায়গা নিয়ে যুদ্ধাবস্থা তৈরি করছে, তার বেশিরভাগ জায়গার প্রকৃত মালিক তারা নয়। তিব্বত হয়তো কখনোই আর পূর্বের রূপে ফিরে আসবে না, একথা সত্য। কিন্তু একটি শক্তিশালী দখলদারি রাস্ট্রের অবিচারের মুখেও চতুর্দশ দালাই লামা তেনজিন গিয়াতসোর অহিংসার বানী, অহিংস পথে প্রতিবাদের ভাষা পৃথিবীকে নতুনকরে ভাবতে শেখাবে। অবশ্যই আবার তিব্বত ফিরে যেতে চাই, হয়তো পুরোনো পথে কিংবা পুরোনো পথ হয়ে আবার নতুন কোনো পথে।

জানি না এ জীবন আমাকে কতটুকু সুযোগ দিবে কিন্তু তিব্বতীয় ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্ম আমাকে পৃথিবীর প্রতিটি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সম্পর্কে জানা ও দেখার আগ্রহ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে৷ আরো গভীরভাবে উপলব্ধি করিয়েছে, আসলে ভ্রমনই জীবন, জীবনই আনন্দ, আনন্দই জীবন।।

সুমন্স ট্যুরিজম মানে অবশ্যই ভিন্ন কিছু, দেশ বা দেশের বাইরে যেকোনো জায়গা ভ্রমন করতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন +8801877027277 এই নাম্বারে। আমাদের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ট্যুর প্যাকেজ থেকেও বিস্তারিত জানতে পারেন । যোগ দিতে পারেন আমাদের সুমন্স ট্যুরিজমের ফেসবুক গ্রুপে  ঃhttps://www.facebook.com/groups/sumonstourism

লেখাঃ রেজাউল করিম সুমন
এডমিন, সুমন্স ট্যুরিজম

 

Leave a Reply