পর্তুগীজ পর্যটক ভাস্কোর শহরে

Blog | Dec 20 | 2020 | No Comment

ভাস্কো দা গামা বা সংক্ষেপে ভাস্কো ভারতের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত গোয়া রাজ্যের বৃহত্তম শহর। শহরটিকে পর্তুগিজ অভিযাত্রী ভাস্কো দা গামা-র নামে নামকরণ করা হয়েছে। শহরটি মুরগাঁও উপদ্বীপের পশ্চিম প্রান্তসীমায়, জুয়ারি নদীর মোহনায়, গোয়ার রাজধানী পানাজি থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। শহরটি ১৫৪৩ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত পর্তুগিজদের অধীনস্থ ছিল।

ভাস্কো, গোয়ার সবচেয়ে বড় শহর হলেও, সমুদ্র পাড়ের ভাস্কো শহরটি অদ্ভুত রকমের সুন্দর এবং সাজানো গুছানো। সড়কপথে দক্ষিণ বা উত্তর—যে দিকেই যান, চলতি পথেই চোখে পড়বে সারি সারি নারিকেলগাছ। আর সড়কগুলো সাগরের লাগোয়াই বলা চলে। তাই সাগরের পাশ ঘেঁষেই গড়ে উঠেছে সব কটেজ, অভিজাত হোটেল ও রেস্তোরাঁ। বাড়িগুলোর ওপরের ছাদ সাজানো হয়েছে মাটির টালি দিয়ে। তবে সব ভবনই দুই থেকে তিনতলার বেশি নয়। এমনকি র্যাডিসন ও গ্র্যান্ড হায়াতের মতো পাঁচতারকা হোটেলও কটেজ টাইপের! চারতলার বেশি নয়।

প্রতিবছর যত পর্যটক গোয়ায় আসে তার খুব বড় একটা অংশ রুশ পর্যটক। তাদের সুবিধার কথা ভেবেই হয়তো রেস্তোরাঁর মেন্যু থেকে শুরু করে অনেক জায়গায় রুশ ভাষার উপস্থিতি বেশ ভালোভাবে লক্ষ্য করা যায়। ডান্স ক্লাবে রুশ গানের পাশাপাশি সমুদ্রসৈকতেও শোনা যায় রুশ ভাষায় পণ্য বিক্রির হাঁকডাক। প্রতিবছর প্রায় ৬০ হাজার রুশ গোয়ায় আমোদ-ফুর্তি করতে হাজির হয়!

যেহেতু ভাস্কোতে নিয়ে কথা হচ্ছে ভাস্কোর সি বিচগুলো নিয়ে একটু কথা বলা দরকার। বেশিরভাগ পর্যটকের ধারনা গোয়ার সি বিচ মানেই আরামবল, মরঝিম, মারগাও শুধু এদিকেই। হ্যা একথা ঠিক ভাস্কো বাদে গোয়ার অন্যান্য বিচগুলো খুব বেশি জমজমাট হলেও ভাস্কোর বিচগুলো অতোটা নয়। তাই হয়তো মনে হতেই পারে পর্যটকের আকর্ষন এদিকে অনেকটাই কম। কিন্তু ভাস্কোতে এমন কিছু সৌন্দর্যকে খুজে পাবেন, যা হয়তো গোয়ার অন্য জায়গাগুলোতে পাবেন না।

ভাস্কো আমাকে টেনেছে মূলত এর নীরব সৌন্দর্যের জন্যই। ভাস্কোতে জাপানিজ গার্ডেন আমার বেশ ভালো লেগেছে, ছোট সুন্দর সাজানো গুছানো একটা পার্কের মত। কার্পেটের মত সবুজ ঘাসের উপর দাঁড়িয়ে আছে নানা প্রকার বড় বড় গাছ। জাপানিজ গার্ডেন এর ধারে গেলে, উপর থেকে নীল সমুদ্রকে পাবেন পায়ের নিচে। নিচে নামলেই সমুদ্রের নীল জলরাশির সাথে পাশে পাবেন পাহাড়কে। পাহাড়ের পাথরগুলোর গায়ে অনবরত ঢেউ আছড়ে পড়ছে। পাহাড়ের উপর সারি সারি নারকেল গাছ দাঁড়িয়ে আছে।

আর একটুখানি হাটলেই আরো পাবেন ভাস্কোর আর একটি সৌন্দর্য মনকি বিচ।। এদিকটায় পাহাড় ও সমুদ্রকে একসাথে পাবেন।

ভাস্কোর খুব সুন্দর আর একটি বিচ বেইনা বিচ। পিছনে ভাস্কো শহর সামনে সমুদ্রের নীল জলরাশির মাঝে মাঝে বেশ কিছু দ্বীপ। এখানে আপনি স্কুবা করতে পারবেন। কিংবা চাইলেই ছোট স্পিড বোটে দ্বীপগুলো ঘুরে আসতে পারবেন। দ্বীপগুলো জনমানবহীন,নানা রকমের পাখি দিয়ে ভর্তি। সেই সাথে চাইলে আপনি এখানে প্যারাগ্লাইডিং টাও সেরে নিতে পারেন।
ভাস্কোর আরেকটি খুব পছন্দের জায়গা হনুমান মন্দির ও এর পাশেই হানছা বিচ। ভাস্কোর বেশিরভাগ বিচেই আপনি নীরব কোলাহলমুক্ত একটা সুন্দর সময় কাটাতে পারবেন।

রাতের ভাস্কো আমার কাছে অন্যরকম লেগেছে। সারাদিন ঘুরে হোটেলে এসে ফ্রেস হয়েই বেড়িয়ে পড়তাম রাতের ভাস্কো শহর উপভোগ করতে। ভাস্কোর রাস্তাগুলো অদ্ভুত সুন্দর, প্রায় সব ব্রান্ডশপ আপনি রাস্তার পাশেই পাবেন। একটু হাটলেই পাবেন ফিশারি ঘাট। দিগন্ত বিস্তৃত সাগরের নীল জলরাশির মাঝে দেখতে পাবেন রাতের নৌযানগুলোর আলো। অনেক বড় বড় জাহাজ এসে নোংগর করেছে, আমি যখন যাই তখন পানামার একটা বিশাল জাহাজ পাড়ে ভিড়েছে। জেটিতে বসলেই , রাতের ভাস্কো শহরের সব আলোগুলো যেনো আরব সাগরের নীল জলরাশিতে খুজে পাবেন। এ এক অন্যরকম সৌন্দর্য।।

যাতায়াতঃ
শহরটিতে দু ভাবেই আসা যায়, নিকটস্থ বিমানবন্দর দাবোলিম বিমানবন্দর মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে। আর ভাস্কো রেল স্টেশন তো শহরেই। স্টেশন থেকে নেমে ২ মিনিট হাটলেই সমুদ্রের দেখা পাবেন।

ভ্রমণ করুন, পৃথিবীর সৌন্দর্যের কাছে যান, সৌন্দর্যকে উপভোগ করুন। গোয়ার অন্যান্য শহরের তুলনায় ভাস্কোতে ট্যুরিস্ট বা হই হুল্লোর কম। প্রতিটি জায়গার আলাদা ভিন্নতা আছে।  ভাস্কোর মাঝে যে নীরব সৌন্দর্য আছে তা হয়তো গোয়ার অন্য জায়গায় পাওয়া যাবে না। কিন্তু গোয়ার অন্য সব জায়গায় যে ব্যাপারগুলো আছে সেগুলো ভাস্কোতে পাওয়া যাবে না কিংবা খুজতে চাওয়াটাই খারাপ। আমার কাছে ভাস্কোর সৌন্দর্যটা অন্যরকম লেগেছে। এরপর আমরা রওনা করবো আরামবলের দি্কে, ভারতের সমুদ্র রাজ্য গোয়ার জমজমাট ট্যুরিস্ট প্লেসের দিকে…

সুমন্স ট্যুরিজম মানে অবশ্যই ভিন্ন কিছু, দেশ বা দেশের বাইরে যেকোনো জায়গা ভ্রমন করতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন +8801877027277 এই নাম্বারে।
আমাদের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ট্যুর প্যাকেজ থেকেও বিস্তারিত জানতে পারেন । যোগ দিতে পারেন আমাদের সুমন্স ট্যুরিজমের ফেসবুক গ্রুপে ঃhttps://www.facebook.com/groups/sumonstourism

লেখাঃ রেজাউল করিম সুমন
এডমিন, সুমন্স ট্যুরিজম

Leave a Reply