Help For Sajek, Food Crisis 2017

Socialworks | Jan 02 | 2018 | No Comment

 

২০১৭ সালের এপ্রিলের দিকে দেশের সবচেয়ে বড় জেলা রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম সাজেক ইউনিয়নে ভয়াভয় খাদ্য সংকট দেখা দেয়। আমরা জানি সাজেক বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে দুর্গম ইউনিয়ন। খাদ্য সংকট দূরীকরনের প্রথম চ্যালেঞ্জ দুর্গম অঞ্চল। এমন কিছু জায়গা আছে হেটে যেতে ২-৩ দিন লাগবে। কিন্তু আমরা ট্রেকাররা তো হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না???

আমরা সুমন্স ট্যুরিজম তখনো কোনপ্রকার বানিজ্যিক ইভেন্ট করাই নি এবং কোন ট্যুরিজম পরিকল্পনাও ছিলো না । টুকটাক ট্রেকিং করতাম আমরা , সেখান থেকে দু –চার হাজার টাকা জমিয়ে জমিয়ে আমাদের সংগ্রহে তখন মাত্র আট থেকে দশ হাজার টাকা ছিলো।

এই অল্প টাকায় কি হবে? খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক পর্যন্ত চাদের গাড়িতে যেতেই তো এই টাকা শেষ হয়ে যাবে। আমরা সুমন্স ট্যুরিজমের ট্রেকার টুরিস্টরা মাঠে নেমে পড়লাম । সর্বপ্রথম আমাদের সাথে যুক্ত হলেন দেশ সেরা আইনজীবী,লেখক ইমতিয়াজ মাহমুদ স্যার। আমরা সাহস পেয়ে গেলাম। কাজ শুরু করলাম।  নর্থ সাউথ ইউনিভার্সির ভাই ব্রাদাররা আমাদের সাথে যুক্ত হলো। লালমনিরহাট জেলার ভাইয়েরা যুক্ত হলো। আমাদের সাহস ও শক্তি বেড়ে গেলো, আমরা পারবো।।

যুক্ত হলো দিনাজপুর হাজী দানেশের সুমন্স ট্যুরিজমের বন্ধুরা। সাথে আরো যুক্ত হলো রংপুর ইউনিভার্সিটি। সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি পাহাড় থেকে প্রচুর পাহাড়িরা আমাদের কাজের সাথে যুক্ত হলো। সেই লংগদু, লোগাং, মারিশ্যা, রোয়াংছড়ি থেকে দলে দলে সবাই আমাদের সাথে যুক্ত হলেন। পাহাড়ে বৌদ্ধ ভান্তেরা আমাদের কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত হলেন। সবাই সমন্বয় করে আমরা এগিয়ে গেলাম দুর্ভিক্ষপীড়িত সাজেকের জন্য।

আমরা সাজেকের কারবারী-হেডম্যান সহ সাজেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নয়ন চাকমার সাথে বসলাম। একটা দিন ফাইনাল করলাম। ১৫ ই মে ২০১৭ তারিখে আমরা ত্রান বিতরন করলাম। দুর্গম অঞ্চলগুলো থেকে ক্ষুধার্ত অসহায় মানুষেরা দলে দলে আসলো। কি অসাধারন অনুভূতি। আমরা দুই শতাধিক পরিবারের কাছে পর্যাপ্ত খাদ্যসহায়তা নিয়ে পৌছাতে পেরেছি।

আমাদের পরিকল্পনায় ছিল ১৫০ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল এবং ১ কেজি করে ডাল দেয়ার। সেখানে আমরা ২৩ টা পাড়ার দুই শতাধিক পরিবারকে সাহায্য দিতে পেরেছি। এই অর্জন সম্ভব হয়েছে Imtiaz Mahmood স্যার এবং পাহাড় কিংবা সমতলের সবার সহযোগীতায়। আমরা চেস্টা করেছি অতি দুর্গম অঞ্চলে ত্রান যেন পৌছাতে পারি। সেটা পেরেছি Njoy Chakma দাদা, আংকেল, আন্টি এবং সাজেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নয়ন চাকমা সহ তার পরিষদের মেম্বারগন, হেডম্যান, কারবারি সবার সহযোগীতায়। আমার সাথে চেয়ারম্যান সাহেবের ত্রান বিষয়ক অনেক আলোচনা হয়েছে, শুধু চেয়ারম্যান নয়, অসাধারণ একজন মানুষ এই নয়ন চাকমা।


Sumon’s Tourism এর জন্য সবাই দোয়া করবেন। এই কার্যক্রম যেন আমরা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে পারি।

Go to original post >>

Leave a Reply